বিএনপিকে পুনর্গঠনের পক্ষে মত দিলেন জ্যেষ্ঠ নেতারা

অনলাইন ডেস্ক, আমাদের ভোলা.কম।

বিএনপিকে পুনর্গঠন করার পক্ষে মত দিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা বলছেন, আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুর্নগঠন করতে হবে। নির্বাচনে পরীক্ষিতদের সামনে আনতে হবে। এরপর আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে।
শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। যারা প্রার্থী ছিলেন, নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের মামলা থেকে পরিত্রাণ ও জেল থেকে মুক্ত করাতে হবে। যেসব এলাকায় আমাদের প্রার্থী ছিল না, সেখানে দলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনে পরীক্ষিতদের সামনে আনতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের যেসব ভাই পঙ্গু, ক্ষতিগ্রস্ত, কারারুদ্ধ, নির্যাতিত হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আজকে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমাদের নেত্রীকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে। সেজন্য এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে।’
‘আমাদের ভাইদের এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে—এই শপথ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো’ বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন একটি কাজে দিয়েছে—আওয়ামী লীগ চিরদিনের জন্য জনগণের মন থেকে দূরে চলে গেছে। পরাজয় আমাদের হয়নি, হয়েছে আওয়ামী লীগের। নৈতিকভাবে তাদের পরাজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগ সেই দল—যারা শুধু ক্ষমতায় থাকতে চায়। সংবিধান এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে তারা ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে আলোতে উঠে আসতে হবে। এজন্য যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটা আপনাদের, আপনাদেরই রক্ষা করতে হব। জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন সামনের দিকে এগিয়ে জেতে হবে।’
ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হলো সেই দল, যারা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকতে চায়। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রকে তারা ব্যবহার করে তাদের প্রয়োজনে। রাষ্ট্রকে তারা ধ্বংস করে দেয়। জিয়াউর রহমানের ওপর তাদের রাগটা ওই জায়গায়, তিনি দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছিলেন। কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সেজন্য জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অপপ্রচার চালান। তাতে কোনও কাজ হবে না।’
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করে দিয়েছে। কীভাবে নির্বাচন করবো। এখন আমাদের দুটি কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো পুনর্বাসন আর অন্যটি পুনর্গঠন। এখন ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার লাখ লাখ নেতাকর্মীকে পুনর্বাসন করতে হবে। দলের ত্যাগীদের সামনে এনে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। যারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের সামনে এনে পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা সামনে থেকে সরে যাবো। তারপরও দলকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুনর্গঠন করতে হবে।’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদের সঞ্চলনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আব্দুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান প্রমুখ।

(সূ্ত্র – বাংলাট্রিবিউন)

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

মে ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« এপ্রিল    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।