কোস্ট ট্রাস্ট দল নিরপেক্ষ: সরকারের সাথে ইতিবাচক সম্পর্কে বিশ্বাসী (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানিত রাজনৈতিক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমাম মহোদয়ের একটি সংবাদ সম্মেলন আমাদের নজরে এসেছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে জড়িত ৯টি বেসরকারী সংগঠন বিষয়ে তাঁর মতপ্রকাশ করেছেন, যেখানে কোস্ট ট্রাস্টের নামটিও আছে। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য প্রকাশের জন্যই এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হচ্ছে। কোস্ট ট্রাস্ট বিশ্বাস করে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানিত রাজনৈতিক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমাম একজন সম্মানিত ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। কোথাও কোনো তথ্যের উৎসের বিভ্রাটের কারণে তিনি কোস্ট ট্রাস্টের নাম বলে থাকতে পারেন।
একটি অলাভজনক, মানবিক ও উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে কোস্ট ট্রাস্ট সর্বদা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, যার মূল ভিত্তি হচ্ছে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ। দেশের স্বার্থে সরকারের সাথে সকল সময় ইতিবাচক সম্পর্কের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সংস্থা কাজ করে থাকে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেনদরবারে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য কোস্ট ট্রাস্ট কাজ করেছে এমন বহু নজির রয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক (ইউএনএফসিসিসি), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন এবং উদ্বাস্তু ও অভিবাসন বিষয়ে জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট নিয়ে কোস্ট ট্রাস্ট সবসময় বাংলাদেশের সরকার তথা জনগণের স্বার্থে কাজ করেছে, সরকারকে তথ্য দিয়ে অথবা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছে। যার দ্বারা দেশ উপকৃত হয়েছে ও দেশের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের উর্ধতন নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে বহুবার আমরা এজন্য সাধুবাদও পেয়েছি।
বিগত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে মনোনীত হবার পর আমাদের ব্যাপারে বিএনপি-জামাত আপত্তি তুলেছিল এই বলে, যে আমরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি। এটি তখনকার সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, সেসময় আওয়ামী লীগও কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে আপত্তি তুলেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা জনাব এইচ টি ইমাম মহোদয়ের সাক্ষাৎ-প্রার্থনা করলে তিনি অনুগ্রহ করে সময় দেন এবং আমাদের কথা শোনেন। পরবর্তীতে তিনি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং কোস্ট ট্রাস্টের ব্যাপারে তাদের আপত্তি প্রত্যাহার করেন। আমরা সেজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করি এবং সফলভাবে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করি।
আমরা এই সূত্রে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা হিসেবে কোস্ট ট্রাস্টের উপর দীর্ঘদিন যাবৎ আস্থা রাখা ও বৃহত্তর সুযোগ প্রদানের জন্য। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিও কোস্ট ট্রাস্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আর্থিক ও কারিগরী সহায়তা প্রদানের জন্য। তবে, আমরা এই মর্মে প্রকাশ করতে চাই যে, বিতর্কিত বিষয় এড়ানো এবং ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটানোর জন্য আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে কোস্ট ট্রাস্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এবং এনজিও ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে কোস্ট ট্রাস্ট একটি বেসরকারী সংস্থা হিসেবে ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র বিমোচন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
বার্তা প্রেরক
রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক (০১৭১১৫২৯৭৯২) ও মোস্তফা কামাল আকন্দ সহকারী (০১৭১১৪৫৫৫৯১)

ফেসবুকে লাইক দিন

ভোলায় ঘাট রেখে বিপাকে ইজারাদার ॥ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে অন্য ঘাটে ভিড়ছে লঞ্চ বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ভোলা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাট ২০২০-২০২১ সনের জন্য ইজারা ডাকা হয়। প্রথম দফা টেন্ডারে সর্বোচ্চ ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকায় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘাটের ডাক পান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ গত ২৮-০৬-২০২০ইং তারিখে নথি নং-১৮.১১.০৯১৮.০৮৩.৪৪.৩৯.১৮/৮৫৫ স্মারকের সম্মতিপত্রের মাধ্যমে ইজারাদার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে ঘাট বুঝিয়ে দেন। ওই ঘাটে ঢাকা-দেওয়ানবাড়ী নৌপথে এমভি পানামা, এমভি সম্পদ, এমভি কর্ণফুলী-১,৩ এবং ঢাকা-হাতিয়া নৌপথের এমভি ফারহান-৩,৪ ও এমভি তাসরিফ-১,২ লঞ্চ ভিড়ানোর কথা। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের অবহেলা ও অজ্ঞাত কারণে লঞ্চগুলো বিশ্বরোডের মাথায় লঞ্চঘাটে বিড়ানো হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গাজীপুর কালুপুর বিশ্বরোড ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়ানোর কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ইজারাদার। লঞ্চগুলো যাতে বিশ্বরোড ঘাটে বেড়ে এজন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোঃ আনোয়ার হোসেন। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অজ্ঞাত কারণে এসব লঞ্চগুলো নির্দেশিত ঘাটে না ভিড়ে ফেরিঘাটসংলগ্ন ইলিশা-লক্ষ্মীপুর ঘাটে ভিড়ানোর ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। ইতিপূর্বে ছোট বড় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই এলাকার একাধিক যাত্রী বলেন, ঢাকাগামী এসব লঞ্চগুলো ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাটে বিড়ানোর নির্দেশ থাকার পরও ফেরীঘাট সংলগ্ন ইলিশা-লক্ষীপুর লঞ্চ ঘাটে বিড়ানো হচ্ছে। একই যায়গায় ফেরী, ছোট লঞ্চ ও ঢাকাগামী বড় লঞ্চ ভিড়ানোর কারণে যাত্রীদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও এই ঘাটে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনায়। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোন আমলে নিচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী যদি লঞ্চগুলো নির্দেশিত ঘাটগুলোতে ভিড়ানো হতো তাহলে যাত্রীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। ভুক্তভোগী ইজারাদার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাট ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছি। ওই ঘাটে ঢাকা-দেওয়ানবাড়ী নৌপথে এমভি পানামা, এমভি সম্পদ, এমভি কর্ণফুলী-১,৩ এবং ঢাকা-হাতিয়া নৌপথের এমভি ফারহান-৩,৪ ও এমভি তাসরিফ-১,২ লঞ্চ কাগজপত্রে ভিড়ানোর নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ আমার ইজারা নেওয়া বিশ্বরোড ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়িয়ে ফেরিঘাটসংলগ্ন লঞ্চঘাটে বিড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। ইলিশা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ ঘাটের সাথে ফেরিঘাট থাকায় সেখানে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো ভিড়ানোর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ওই ঘাটটি। সেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। আমার ঘাটে এসব লঞ্চ কেন বেড়ানো হচ্ছে না এ ব্যাপারে আমি বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান ও নদী বন্দর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিনকে অবহিত করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা এ ব্যাপারে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তবে এ ব্যাপারে আমি লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি, তারপরও তারা আমার ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়িয়ে তালবাহানা করছে। এই ঘটনার সমাধান চেয়ে আমি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছি। এসব লঞ্চ যদি নিয়মিত আমার ঘাটে না বেড়ে তাহলে বড় ধরনের লোসকান গুনতে হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অতি দ্রুত সরকারি নির্দেশিত ঘাটে লঞ্চগুলো যাতে বেড়ে সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান কাছে জানতে ফোন করলে তিনি বলেন, ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাটের নতুন ইজারাদার তার ঘাটে লঞ্চ ভিড়ানো হচ্ছে না বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমরা লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশি ঘাটগুলোতেই ভিড়ানোর জন্য বলেছি। মাঝে মধ্যে ২/১টি লঞ্চ ভিড়ালেও নিয়মিত তা ভিড়ানো হয় না। নতুন ইজারাদরকে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা হেড অফিসের নির্দেশে আমরা পরবর্তী এ্যাকশনে যাবো। তবে দুই ঘাটের পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রনে থাকে সে জন্য আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে আমরা এ বিষয়টি সমাধান করতে সক্ষম হবো।

আর্কাইভ

জুলাই ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« জুন  
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!