কক্সবাজারে ছাত্রছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করতে কোস্ট ট্রাস্টের বিশেষ ‘শিক্ষার্থী সমাবেশ’  

সোহেল মাহমুদ,ককসবাজার থেকে ঘুরেঃ
দেশপ্রেমিক যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে নিজের অধিকারের বিষয়ে সচেতন
হওয়ার পাশাপাশি অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার তাগিদ
 কক্সবাজার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯। আজ কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীদেরকে যথাযথ কর্মজীবনের লক্ষ্য তৈরি, সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর দিক নির্দেশনা প্রদান এবং নিজের অধিকারের বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যের অধিকারের বিষয়ে শ্রদ্ধাশীল হতে অনুপ্রেরণা প্রদানের লক্ষ্যে এক বিশেষ শিক্ষার্থী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কোস্ট ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সবার উপর মানুষ সত্য’ শীর্ষক সমাবেশে বক্তাগণ ছাত্রছাত্রীদেরকে দেশপ্রেমিক সু-নাগরিক হওয়ার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে কর্মজীবন বাছাই করার পরামর্শ দেন।
বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনজিও সেল) জিনাত শহীদ পিংকি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবর রহমান, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী, ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার হেড অব অপারেশন মারিন ডিন কাইদুম চাই , জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কক্সবাজার প্রধান পিটার এংলো, ইউএনওমেনের কক্সবাজার প্রধান ফ্লোরা ম্যাকুলা, ইউএনএফপিএ-এর কক্সবাজার প্রধান রোজলিদা রাফায়েল, কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি হোসাইনুল ইসলাম মাতবর, ককক্সবাজার জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের সহকারী পাবলিক প্রসিউকিউটর এডভোকেট শাকী এ কাউসার, ভয়েস অব উখিয়ার সম্পাদক নূর মোহাম্মদ শিকদার, উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কমর উদ্দিন মুকুল, টেকনাফ উপজেলার শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম এ মঞ্জুর, উখিয়ার নুরুল ইসলাম চৌধুরী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রী শারমিন সুলতানা প্রিয়া এবং টেকনাফের  কাঞ্জরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সামিরা আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কোস্ট ট্রাস্টের কক্সবাজার আঞ্চলিক টিম লিডার জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, পাশাপাশি অধিকার বিষয়ে বিভিন্ন সেশনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিশেষ প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সমাবেশে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক  মো. মজিবুল হক মনির। তিনি উল্লেখ করেন, এই ঘোষণাপত্র আমাদের শেখায় যে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্ব নিশ্চিত করতে চাইলে সকলের অধিকারের প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। স্বাগত বক্তব্যে কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কোস্ট ট্রাস্ট গত ৬ মাস ধরে উখিয়া ও টেকনাফের ২৫ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদেরকে অধিকার বিষয়ে সচেতন করতে মানবাধিকার বিষয়ক সেশন, রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগীতা, উপস্থিত বক্তৃতা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। এ ধরণের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে জানার আগ্রহ এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটছে। তারা জ্ঞান অর্জন করছে, তাদের মেধা মনন, উপস্থাপনাশৈলী, আত্মবিশ্বাস এবং সর্বোপরি নেতৃত্বের গুণাবলীর বিকাশ ঘটছে। তাদেরকে উৎসাহিত করা এবং আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখানোর  জন্য পুরস্কার ও সম্মাননাপত্র প্রদান করছি।
ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার হেড অব অপারেশন মারিন ডিন কাইদুম চাই বলেন, অধিকার বঞ্চিত রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিয়ে কক্সবাজারের মানুষ, তথা বাংলাদেশ সারা বিশ্বের জন্য দারুণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আজকের যারা তরুণ তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ। সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে, শৃংখলাপূর্ণ জীবন বেছে নিতে হবে।
কক্সবাজার জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি হোসাইনুল ইসলাম মাতবর বলেন, স্কুল জীবন থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে একটি গঠনমূলক র্কমজীবনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা।  উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, এটা ঠিক যে রোহিঙ্গাদের আগমনে আমাদের উখিয়া টেকনাফের মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাতে কক্সবাজারবাসী গর্ব করতে পারি যে, আমরা মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করতে পেরেছি। কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবর রহমান বলেন,  রোহিঙ্গা আগমণের ফলে আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সবাই এগিয়ে এসেছেন। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রতিকূল নানা সমস্যা মোকাবেলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনজিও সেল) জিনাত শহীদ পিংকি বলেন, ছাত্রজীবনে আমি দর্শকের সারিতে বসে অতিথিদের মঞ্চের দিকে তাকিয়ে একদিন আমিও এ ধরনের মঞ্চে বসার  স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্ন পূরণে আমি অনেক কষ্ট করেছি, পড়াশুনা করেছি এবং আজ আমিও তোমাদের সামনে মঞ্চে বসতে পারছি। তাই আমি বলবো, এখন থেকেই স্বপ্ন দেখতে হবে। জীবন গঠনের সবচেয়ে সেরা সময় ছাত্রজীবন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার  জনাব মাহবুবুল আলম তালুকদার বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে উখিয়া টেকনাফের মানুষের ত্যাগের কারণে মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে সারা বিশ্ব আজ আমাদের দেশকে জানে। প্রতিটা সংকটই কিছু সুযোগ বয়ে আনে। রোহিঙ্গা সংকটও আমাদের জন্য কিছু সুযোগ বয়ে এনেছে। এগুলি কাজে লাগাতে হবে। আর তরুণ সমাজের-ছাত্রছাত্রীদের জীবন গঠনে অভিভাবকদেরকেও সতর্কতার সঙ্গে ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাবেশের পর কক্সবাজারে কর্মরত জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থা খাদ্য ও কৃষি সংস্থার কক্সবাজার প্রধান পিটার এংলো, ইউএনওমেনের কক্সবাজার প্রধান ফ্লোরা ম্যাকুলা, ইউএনএফপিএ-এর কক্সবাজার প্রধান রোজলিদা রাফায়েল, আইওএম কক্সবাাজার প্রধান ম্যানুয়েল মনিস আলাদা আলাদাভাবে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। ছাত্রছাত্রীরা মূলত তাদের কর্মজীবন, শিক্ষা ব্যবস্থা, সংস্কৃতি, জীবন সংগ্রাম বিষয়ে জানতে চান।
সোহেল মাহমুদ

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

জানুয়ারি ২০২০
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« ডিসেম্বর    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।