১২ নভেম্বর কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে “দুর্যোগ ও দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হোক—

১২ নভেম্বর কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে “দুর্যোগ ও শোক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হোক—

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। বিশ্ব ইতিহাসের এক নির্মম বেদনাময় দিন। ১৯৭০ সালের এই দিনে ইতিহাসের ভয়ংকর বন্যা জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের ১০ লক্ষাধিক বনী-আদম প্রাণ হারিয়েছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে একদিনে প্রাকৃতিক দুর্যোগে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা আর কখনো ঘটেছে কিনা তার কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে কয়েক হাজার মানুষ আণবিক বোমায় মারা গিয়েছে। যে দিনটি বিশ্ব ইতিহাসের একটি শোকার্ত দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে। অথচ ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরে উপকূলের ১০ লক্ষাধিক মানুষ প্রান হারাল , অথচবিশ্বব্যাপী দূরে থাক জাতীয়ভাবেও তার শোক প্রকাশের কোনো কর্মসূচি আমরা দেখতে পাই না। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সেদিন শুধুমাত্র ভোলা দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে চরফ্যাশন, মনপুরা , তজুমুদ্দিন , দৌলতখান এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। এসব এলাকার এমন বহু পরিবার বহু পরিবার রয়েছে যাদের সকল সদস্য সেদিনের ঝড় জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ হারিয়েছিল । বহু পরিবারের একজন কিংবা দুইজন কোনোভাবে বেঁচে ছিল। ১৯৭০ সালের বিভীষিকাময় সেই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের স্মৃতি নিয়ে এখনো কিছু মানুষ বেঁচে রয়েছে। ৫১ বছরের ব্যবধানে এখনো উপকূলের অনেক মানুষ সেদিনের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদেরকে এখনো স্মৃতির আয়নায় খুঁজে বেড়াচ্ছে।সেদিন পাকিস্তানি শাসকরা এই মহা দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে যথাযথ ভূমিকা রাখেনি , আর সে কারণে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ পূর্ব পাকিস্তানের নেতারা পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়েছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একসময় স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। কাজেই আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম গুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিডিয়ার পক্ষ থেকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ দিবসটি যথাযথ ভাবে উদযাপন করা হয় না। স্মরণ করা হয় না সেদিনের হারিয়ে যাওয়া আমাদের ভাই বন্ধু দেরকে।
আমরা মনে করি ১২ নভেম্বর শুধু উপকূলের কিংবা ভোলা দ্বীপের কোন দুঃখময় ঘটনা নয়। বরং দেশের এমনকি বিশ্বের ইতিহাসে এক শোকার্ত দিন ।আমরা ১২ নভেম্বরের এই দিনে সেদিনের হারিয়ে যাওয়া উপকূলের লক্ষ লক্ষ ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষগুলোর কথা স্মরণ করছি। পরম করুনাময় আল্লাহ তাআলার নিকট তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

১২ নভেম্বর কে জাতীয় “দুর্যোগ ও শোক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে যথাযথভাবে দিনটি পালন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। আমরা আশা করব শুধু বাংলাদেশ নয় সরকার চেষ্টা করলে জাতিসংঘ কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের মাধ্যমে এ দিনটিকে বিশ্ব দুর্যোগ ও শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা হতে পারে।অন্ততপক্ষে জাতীয়ভাবে এ দিনটিকে যদি “দুর্যোগ ও শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাহলে সেই মহা দুর্যোগে যাদের সলিল সমাধি ঘটেছিল সেই মানুষগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। তাই আমাদের দাবি হচ্ছে এই দিনটিকে “জাতীয় শোক ও দুর্যোগ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে দিনটি পালনের মাধ্যমে এই দিনে নিহতদের প্রতি সমবেদনা ও তাদের জন্য দোয়া করার ব্যবস্থা করা হোক। একইসঙ্গে আমরা সরকারের কাছে উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ পরবর্তী কার্যক্রম এবং জনগণকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, নদী ও সাগরের পারে আরও বনাঞ্চল গড়ে তোলা সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

সম্পাদকীয় মতামত : আলহাজ্ব মোহাম্মদ শওকাত হোসেন (সম্পাদক – দৈনিক আজকের ভোলা)

 

 

 

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০২১
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।