সরকারি একটি ঘরের জন্য এক ভিক্ষুকের করুন আকুতি।

আকতারুল ইসলাম আকাশ ,আমাদের ভোলা.কম।

ইলিশার নাদের মিয়ার হাটের উত্তরে হোসেন লার্ডের বাড়িতে ১৯৬৮ সালে আমার জন্ম। তখন আমাদের পরিবারটি ছিলো একেবারে হতদরিদ্র তাই শিক্ষার আলোর ছোঁয়া লাগেনি আমাদের পরিবারের কারো জীবনে। ধিরে ধিরে শৈশব, কিশোর জীবন কেটে এখন আমি বৃদ্ধের জীবনে আবদ্ধ। জন্মের ২০ বছর পর মেঘনা নদীর গর্ভে চলে যায় আমাদের বসতি স্থাপনটি। তখন আশ্রয়ের জায়গা হয় ভোলার রাজাপুরের ৮নং ওয়ার্ডে। এইখানেই বড় হয় আমার ২ মেয়ে ও ২ ছেলে। আমি তখন গাছ কাটার কাজ করতাম। আমার পরিবারটি দরিদ্র তাই অল্প শিক্ষায় শিক্ষিত করে বিয়ে দিয়ে দেই আমার অল্প বয়সের দুই মেয়েকে। ছেলে ২টার মধ্য বড় ছেলে লিঙ্গ প্রতিবন্ধী এবং ছোট ছেলে এবার পিএইচসি পরীক্ষার্থী। আজ ৯ বছর ধরে আমি প্যারালাইসেন্স রোগে আক্রান্ত। নিজস্ব যে সম্পদ ছিলো তা দিয়ে চিকিৎসা চালিয়েও সুস্থ হয়ে উঠতে পারিনি। এখন সব হাঁড়িয়ে জীবনের তাগিদে ভিক্ষা করে জীবন কাটাচ্ছি কোন মতে। বড় মেয়ের জামাই লজ্জা পাবে তাই সেই এলাকায় ভিক্ষা করিনা। আমার স্ত্রী ( বউ ) মানুষের বাসায় কাজ করে। প্রতিবন্ধী ছেলেটি মালের হাটের চায়ের দোকানে পানি টেনে জীবন চালায়। মাঝে মধ্য ভুলত্রুটি হলে দোকানদারও মারে। একটা টিনের চালায় মাথা গুঁজিয়ে বাঁচাচ্ছি জীবন। এখন শীত মৌসুম পাতার বেড়ার ফাঁকে ঠান্ডা বাতাস ডুকে সমস্ত শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। একটা কম্বলও নেই ঘরে। তাই ছিঁড়া খাঁথা গায়ে দিয়ে ধান গাছের আগাছা ( নারা বা কুঢা) নিচে বিছিয়ে রাতটা কোন মতে কাটাচ্ছি। সকাল হলে আবার বেড়িয়ে যাই ভিক্ষার উদ্দেশ্যেই।
সরকারি ঘর এসেছে শুনে গিয়েছি চেয়ারম্যানের কাছেও কিন্তু সেটা থেকেও বঞ্চিত হলাম। সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মানুষকে কেউই মূল্য দেয়না। কথা বলতে বলতে এইখানেই এসে নীরব হয়ে যান ভিক্ষুক দুলাল। কাঁদতে থাকেন অঝর অশ্রু চোখে নিয়ে।

তাই জানতে চেয়েছিলাম তার স্ত্রী বিবি হাজেরার কাছে তিনি বলেন, কিছু আগে বিদেশে থাকা জাকির নামে এক ভাই কিছু টাকা দিয়েছে। দেশের মানুষের মায়া না থাকলেও বিদেশের মানুষের মায়া আছে। কি করবো জীবন তো চালাতে হবে তাই তো কাজ করছি মানুষের বাসায় চলছে জীবন চলবেই। আবেগে আবার বলে উঠলেন আমরা মানুষ না তাই আমাদের প্রতি কারোই মায়া হয়না।

তাদের এই সব কথা শুনে চলে আসার সময়, স্থানীয় প্রতিবেশিরা বলেন, সরকার এতো ঘর দেয় গরীব মানুষদেরকে এদের কে কি সরকারের চোখে পড়েনা। চেয়ারম্যানের কাছে কি এরা কখনো কোন কিছুর জন্য গিয়েছে? এই প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তর মিলে আর কত যাইবো যেতে যেতে এখন এরা ক্লান্ত ( হরান) হয়ে গেছে। তাই প্রতিবেশিসহ ভিক্ষুক দুলাল বলেন যদি পারেন তাহলে কইয়েন তোফায়েল সাহেব যে আমারে একটা ঘর দেয়। যেহেতু চেয়ারম্যানের কাছে ঘর পাই নাই। তাই এবার তোফায়েল আহমেদ এর কাছে একটা ঘর চাই। শীতের বাতাসে কবে জানি মারা যাই আল্লাহ ই জানে। এই পরিবারটিকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে নিম্নের নাম্বারে কল দিয়ে সাহায্য করুন ০১৭৯৭২০৩৫৭৮ (ভিক্ষুক দুলালের ফোন নাম্বার)

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« সেপ্টেম্বর  
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১ 

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।