ভোলায় ঘূর্নিঝড়ের তান্ডবে ইট ভাটা ব্যাবসায়ীদের ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি, আয়কর মওকুফের দাবী মালিকদের

ইয়াছিনুল ঈমন, আমাদের ভোলা.কম।

চারদিকে যখন একটু শীত জেঁকে বসতে শুরু করেছে, ঠিক তখন কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহে আকস্মিক বৃষ্টিতে এবং ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানের ঘর বাড়ি, ফসলি জমির পাশপাশি ইটভাটার মালিকেরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। ইটভাটা মৌসূমের শুরুতেই বৃষ্টি থেকে কাঁচা ইট রক্ষায় তেমন কোনো প্রস্তুতি ছিল না তাঁদের। পোড়ানোর জন্য প্রস্তত রাখা কাঁচা ইট বৃষ্টিতে ভিজে এ লোকসানের শিকার হয়েছেন তাঁরা।
সূত্রে জানা যায়, জেলার সাত উপজেলার অধিকাংশ ইট ভাটায় কোন শ্রমিক নেই। সাজানো কাঁচা ইটগুলো বৃষ্টির পানিতে গলে গেছে। কিছু ইট পলিথিন দিয়ে ঢাকার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে শেষ রক্ষা হয়নি। টানা ২ দিনের বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ইট ভাটায় প্রস্তুতকৃত কাচা ইট গলে মাটির স্তুপে পরিণত হয়েছে। ভাটা মালিকদের দাবী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে আমাদের আরো এক থেকে এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যাবে। রূপালী গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক জে আই সবুজ জানান, তাদের ২ টি ইটভাটায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ প্রায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। সোনালী ইটভাটার ব্যাবস্থাপনা পরিচালক বাহালুল করিম রুবেল বলেন, আমাদের ইটাভাটায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের পক্ষে ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব কিনা তা জানিনা। আল্লাহর কাছে দোয়া করি আর যেন বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়।
একতা ও ফ্রেন্ডস্ বিক্স’র মালিক এবং জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম কায়েদ জানান, তার দুটি ফিল্ডে প্রায় ১০ লাখ প্রস্তুতকৃত কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। এতে তার প্রায় ৬০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্য ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ইটভাটা মালিকদের আয়কর মওকুফের দাবী জানিয়েছেন।
দৌলতখানের সাদী ব্রিকস্ এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সাদী চৌধুরি বলেন, আমার প্রায় ৩ লাখ ইট নষ্ট হয়েছে। এতে আমি প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি। আমরা সরকার ও প্রশাসনের সহযোগীতা পেলে এ ক্ষতি পোষানো সম্ভব হবে। একই উপজেলার রংধনু ব্রিক্স ফিল্ডের কর্ণধার পারভেজ জানান, তাদের দুটি ফিল্ড ও কয়লার ডিপোসহ প্রায় ১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়।
খান ইটভাটার ইটকাটার এক শ্রমিক বলেন, ঘূণিঝড় বুলবুল এর কারণে তাদের কাজ বন্ধ রয়েছে। তারা এখন মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। রফিজল নামের এক ক্রেতা বলেন, তিনি বিদেশ থেকে তিন মাসের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছেন নতুন ঘর নির্মাণ করবেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারনে ইটভাটাগুলোতে ইট পোড়াতে না পারার কারণে আমি যথাসময়ে কাজ শুরু করতে পারব না এবং এবং ইটের দাম বেড়ে যাওয়ার আশংকা করছি।
ভোলা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশারেফ হোসেন দুলাল বলেন, ভোলা জেলায় প্রায় ১২০টি ইটভাটা রয়েছে। প্রতিটি ইটভাটায়-ই ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে প্রচুর পরিমানে কাঁচা ইট নষ্ট হয়েছে। ইটভাটা মালিকরা প্রায় ৫০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে। আমরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ইটভাটা মালিকদের আয়কর ও ভ্যাট মওকুফের দাবী জানাচ্ছি ও ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্য সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

জুলাই ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« জুন  
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!