ভোলায় সংঘর্ষের ঘঁঁটনায় মামলার আসামী ৫ হাজার, মুসলিম ঐক্য পরিষদের আল্টিমেটাম

কাজী মহিবুল্লাহ আযাদ, আমাদের ভোলা.কম ॥
নবীকে নিয়ে ‘কটূক্তিকারীর’ ফাঁসি, পুলিশ কর্মকর্তাদের অব্যাহতিসহ ৬ দফা দাবি পূরণের জন্য প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে ভোলার ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’। দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিনে ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে এক সমাবেশ শেষে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকটি ইসলামপন্থি দল মিলে এই ‘ঐক্য পরিষদ’ গঠন করে আন্দোলন চালাচ্ছে। সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গতকাল সোমবার সকালে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এই ঐক্য পরিষদ। কিন্তু প্রশাসন অনুমতি না দেওয়ায় এবং ওই মাঠ ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেওয়ায় সমাবেশের বদলে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, ভোলার নেতা তোফায়েল আহমেদ এমপি ও ডিসি মহোদয়ের অনুরোধে আমাদের সমাবেশ স্থগিত করেছি। তবে আমরা ৬ দফা দাবি দিয়েছি, তা আগামি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব। মাওলানা বশির উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার বিকালে ভোলার প্রতিটি থানায় বিক্ষোভ মিছিল আহ্বান করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকালে তারা জেলা সদরে মানববন্ধন করবেন। পরে শুক্রবার বিকালে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ’। সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি পড়ে শোনান ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, যিনি ইমান আক্বিদ্বা সংরক্ষণ কমিটিতেও একই দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের ছয় দফা দাবি হল: যে যুবকের ফেসবুক আইডি থেকে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার ফাঁসি কার্যকর, সংঘর্ষে নিহতদের লাশ বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর, আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা, ভোলার পুলিশ সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসিকে প্রত্যাহার, নিহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও গ্রেফতারদের বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া। ঐক্য পরিষদের এই সংবাদ সম্মেলনের পর জেলা সার্কিট হাউজে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের নেতাদের যে দাবিগুলো এসেছে, তা দেখার জন্য আমাদের নির্দিষ্ট বিভাগ আছে। ফেসবুক আইডি হ্যাক করার যে বিষয়টি আছে, তা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষজ্ঞ টিম ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনা করবে। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এদিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংর্ঘষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন এ মামলা করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক বলেন, রোববারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, বিশৃঙ্খলার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে সেখানে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, কেউ যেন প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের সভা সমাবেশ বা মিছিল না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
বোরহানউদ্দিনের ঘটনার পর ভোলা জেলা শহরেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সকাল থেকে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল বন্ধ। সদর রোডের একজন ব্যবসায়ী সকালে বলেন, সাধারণত এই সময়ে জেলা শহরের সব দোকানপাটই খোলা থাকে। কিন্তু এখন তো গ-গোল। তাই কখনও খোলা রাখছি, কখনও বন্ধ রাখছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দোকানপাট আবার খুলবে। গত রোববার থেকেই ভোলায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশের জেলা থেকে দুইশর বেশি পুলিশকে ভোলায় আনা হয়েছে বলে ভোলা মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন। আর বোরহানউদ্দিনে পুলিশ ও বিজেবির পাশাপাশি কোস্টগার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানিয়েছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

জুন ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« মে  
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০ 

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।