ভোলায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, ৪ জনের মৃত্যু

ইয়াছিনুল ঈমন, আমাদের ভোলা।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে উপকূলীয় জেলা ভোলার বিভিন্ন জনপদ লন্ডন ভন্ড হয়ে গেছে। দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ প্রায় দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর সাথে আংশিক ক্ষতি হয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি। পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের।
বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারে গাছপালা পড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এরসাথে চলতি মৌসুমে আমন ধান ও আগাম শীতকালীন শাকসবজির ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন জেলার কৃষি বিভাগ।
সোমবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঝড় বাতাসে জেলার ঢালচর ও কুকরি-মুকরি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উপজেলায়ই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় গাছ চাপায় ও পানিতে ডুবে ভোলা সদর উপজেলা, দৌলতখান, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদের মধ্যে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মেইকার বাড়িতে ঘর চাপায় মফিজল ইসলাম (৬০), দৌলতখান উপজেলায় বিবি খাদিজা (২০), লালমোহন উপজেলার লড হাডিঞ্জ ইউনিয়নে ফাতেমা বাদ গ্রামে পানিতে ডুবে রাবেয়া (৩০)
ও চরফ্যাশন উপজেলার হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নে মটরসাইকেলে যাওয়ার সময় গাছের চাপায় মনির ( ৩০) সহ মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভোলা-চরফ্যাশ ও ভোলা-দৌলতখান আঞ্চলিক সড়কে বড় বড় গাছ ভেঙে পড়েছে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ও কুকরি-মুকরি ইউনিয়নে। সোমবার সকাল থেকেই ঢালচর ও কুকরি-মুকরি ইউনিয়ন ছিলো পানির নিচে। দুপুরের পর থেকে দমকা হাওয়া ও ঝড়ো বাতাসের সাথেই এক এক করে বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানকার বিভিন্ন দোকানপাট কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক ঘরবাড়ি। এর সাথে আংশিক ক্ষতি হয়েছে আরো পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি। বর্তমানের সেখানকার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে জীবন যাপন করছেন।
এদিকে ঝড়ের আঘাতে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ পাশাপাশি কিছুটা শাকসবজির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তথ্যমতে চলতি মৌসুমে জেলায় আমন ধানের আবাদ হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর। তারমধ্যে ১০% গাছে ফুল এসেছে। বৃষ্টি ও বাতাসের আঘাতে ঐসকল গাছের ফুল ঝড়ে পড়ার পাশাপাশি গাছ নুইয়ে হেলে পড়ে আমনের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর সাথে ৬ হাজার হেক্টর আবাদকৃত শাক সবজির মধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টর শাকসবজি পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হাসান ওয়াহিদুল কবির জানান, ঘূর্ণিঝড়ে আমরা যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করেছি হয়তোবা আল্লাহর অশেষ কৃপায় সে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি আমাদের অঞ্চলে হয়নি। যদিও জমিতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে তা আমন উৎপাদনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। হয়তোবা ১০ শতাংশ গাছে ফুল আসছে সেই গাছগুলো তীর পানি ও বাতাসে হেলে পড়ে তাতেই ক্ষতির মধ্যে পড়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে এরইমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা নিরূপণ করার কাজ শুরু করেছেন বলে জানান ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ফনি ঝড়ের আঘাতে নিহত পরিবারগুলোকে মাঝে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের কাছে যে পরিমাণ ঋণ রয়েছে তা হয়তো আমরা কিছু কিছু পরিবারকে দিতে পারবো। এছাড়া ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করে আমরা মন্ত্রণালয় পাঠিয়ে দিব। এরপর সেখান থেকে বরাদ্দ আসলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে ভোলা জেলা ত্রাণও পুনর্বাসন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, তাদের হিসেবে ভোলার দৌলতখান ও সদর উপজেলার পরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ ঘর বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« নভেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১ 

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।