শিক্ষকদের এমপিও হয়রানি, বরিশাল থেকে শতাধিক ফাইল ফেরত

এম আবু সিদ্দিক, বিশেষ প্রতিনিধি॥

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন অতি ছোটখাটো কারণে ভোলা জেলার চরফ্যাসন লালমোহন ও বোরহানউদ্দিনের শতাধিক শিক্ষকদের এমপিওর আবেদন প্রত্যাখান করেছেন। মর্মে অভিযোগ ভূক্তভোগীরা মিডিয়ার কাছে অভিযোগ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ৫৭.০০.০০০০.০৪৩.১৬.০০৯.১৭.৯০১, তারিখ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ এর পরিপত্র থাকা সত্বেও এমপিও বঞ্চিত হয়েছেন চরফ্যাসন উপজেলার এওয়াজপুর অজুফিয়ার (দাখিল এমপিওভূক্ত) আলিম মাদ্রাসার সহ-সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন। প্রায় অর্ধশত এমপিও বঞ্চিত শিক্ষক/কর্মচারীগণ গতকাল চরফ্যাসনে সংবাদকর্মীদের নিকট লিখিত এসব অভিযোগ করেন। অভিযোগে দেখা যায় যে, চরফ্যাসন উপজেলার চরশশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) জনাব মোঃ হান্নান মিয়া জুলাই/২০১৮ মাসে এমপিওভূক্তি হওয়ার লক্ষ্যে ডিডি বরিশাল এর নিকট আবেদন করেন। তিনি বি.এড পাশ থাকা সত্বেও বেতন কোড -১০ চাওয়ায় তার আবেদন বাতিল করলে সেপ্টেম্বর/২০১৮ মাসে তিনি পুনঃরায় আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় মহিলা কোঠা পূরণ না থাকার কারণ দেখিয়ে তার আবেদন আবারও রিজেক্ট করে দেন। তিনি বলেন, আমি ২০০১ সালে নিয়োগ নিয়েছি। আর মাত্র ৫ বছর আমার চাকুরীর মেয়াদ আছে। আমার প্রতি কর্তৃপক্ষের অহেতুক হয়রানী অমানবিক। একই উপজেলার উত্তর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশিদা বেগম অভিযোগ করেন সরকারী চাকুরি বিধি মোতাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে বেতন কোড- ৮ প্রাপ্য থাকলেও আমি ৮ কোড চাওয়ায় ডিডি বরিশাল কর্তৃক জুলাই ও সেপ্টেম্বরের এমপিওতে আমার আবেদন রিজেক্ট করে দেন। আমার চাকুরীর বয়স প্রায় ২৩ বছর এবং আমি বি.এড পাশ। এওয়াজপুর অজুফিয়া আলিম মাদ্রাসার সহ-সুপার ইকবাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ৫৭.০০.০০০০.০৪৩.১৬.০০৯.১৭.৯০১, তারিখ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ এর পরিপত্র মোতাবেক আমি সহ-সুপার পদে নিয়োগ পাই। জুলাইর এমপিওতে ডিডির নিকট আবেদন করলে আমার নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্ত করার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার, ভোলাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার, ভোলা কর্তৃক তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর ডিডি আমাকে ফোন করে আমার অভিজ্ঞতা প্রমানের জন্য পূর্বের প্রতিষ্ঠানের সকল এমপিও তাকে দেখাতে বললে আমি এ করোনার মধ্যে ১৫ বছরের ৩০টি মূল এমপিও কপি তাকে দেখানোর পরে তিনি বলেছেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পরিপত্র ঠিক থাকলে আপনাকে এমপিওভূক্ত করা হবে। অথচ পরিপত্র ঠিক থাকা সত্বেও তিনি আমার আবেদন রিজেক্ট করে দেন। একই উপজেলার এওয়াজপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এনটিআরসিএ কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্ত ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষিকা সাবিহা ইয়াছমিন অভিযোগ করেন, এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগের ২ বছর পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক এমপিওভূক্তির জন্য আবেদন করার পর শিক্ষক তালিকা যথাযথ হয়নি মর্মে আমার আবেদনটি রিজেক্ট করে দেন। ওসমানগঞ্জ আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মোঃ ইকবাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক (ব্যবসায় শিক্ষা) মোঃ নাজিম জানান, মহিলা কোটা পূরণ না থাকায় তাদের আবেদনও রিজেক্ট করা হয়। অথচ পরিপত্র মোতাবেক পরপর তিন বার জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোন মহিলা প্রার্ধী না পাওয়ায় তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিম জিন্নাগড় নূরিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ ছিদ্দিক ও উপাধ্যক্ষ মোঃ রুহুল আমিন জানান, বকেয়া বেতনের জন্য আবেদন করলে, তাদের বকেয়া বেতন প্রাপ্যতার চেয়ে কম চাওয়ায় তাদের আবেদনও রিজেক্ট করে দেন। এমনকি চর আইচা হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোঃ আলম এর এমপিওর আবেদন রিজেক্ট করা হয় ঐ মাদ্রাসার ১ম এমপিওকপি অস্পষ্ট থাকায়। এ জাতীয় তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে চরফ্যাসন, লালমোহন, বোরহানউদ্দিন, ভোলার শতাধিক এমপিওর আবেদন রিজেক্ট করেন বরিশালের ডিডি মোঃ আনোয়ার হোসেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয় শিক্ষকদের এমপিওভূক্তিতে অনাহুত হয়রানী করলে তার বিরুদ্ধে মন্ত্রনালয় ব্যবস্থা নিবে। ভুক্তভোগীদের দাবি শিক্ষামন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিব,মাউশি সংশ্লিস্টরা বরিশালের ডিডি কর্তৃক শিক্ষকদের হয়রানির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক। এ বিষয়ে সেলফোনে ডিজি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কাউকে অহেতুক হয়রানি করিনা। সকল ফাইল বিধি মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক অনেক এমপিও ফাইল রিজেক্ট করেছি

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« সেপ্টেম্বর  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১ 

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!