মনপুরায় ধর্ষনের অভিযোগে ছাত্রলীগ সভাপতি বহিষ্কার

কাজি মহিবুল্লাহ আযাদ, আমাদের ভোলা.কম।

ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার মনপুরা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রণিকে বহিস্কার করেছে ভোলা জেলা ছাত্রলীগ। সোমবার ৯ সেপ্টেম্বর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ ইব্রাহীম চৌধুরী পাপন ও সাধারন সম্পাদক মোঃ রিয়াজ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিস্কার আদেশ দেয়া হয়েছে। উল্ল্যখ্য মনপুরা উপজেলার সরকারি ডিগ্রি কলেজের সভাপতি রাকিব হাসান রনির বিরুদ্ধে একই কলেজের ছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই কলেজ ছাত্রী শুক্রবার রাতে মনপুরা থানায় রাকিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজহার ও ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী থেকে জানা যায়, ভিকটিম ও ছাত্রলীগ সভাপতির বাড়ি মনপুরা উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরযতিন গ্রামে। তারা একই কলেজে পড়াশোনা করেন। এক বছর আগে ওই ছাত্রীতে প্রেমের প্রস্তাব দেন রাকিব হাসান রনি। এতে রাজি হননি কলেজছাত্রী। পরে ২০১৮ সালের ৬ জুন কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রাকিব। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কলেজছাত্রীকে বিয়ে করবে বলে রাকিবের বাড়িতে আসতে বলা হয়। বাড়িতে গেলে ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন রাকিব। সেই সঙ্গে বিয়ে করবে না বলে ছাত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেন। ওই সময় ছাত্রী ঘর থেকে বের হতে না চাইলে তাকে মারধর করেন রাকিব। পরে স্থানীয়রা ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ নিয়ে শুক্রবার রাতে থানায় মামলা করেন কলেজছাত্রী। এ বিষয়ে জানতে মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিব হাসান রনিকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি। মনপুরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ ফোরকান আলী বলেন, মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সভাপতি রাকিব হাসান রনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছে কলেজছাত্রী। রনিকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছন পুলিশ। অন্যদিকে ধর্ষিতা মনপুরা হাসপাতাল থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থান্তর করা হয়েছে

ফেসবুকে লাইক দিন

ভোলায় ঘাট রেখে বিপাকে ইজারাদার ॥ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে অন্য ঘাটে ভিড়ছে লঞ্চ বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ভোলা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাট ২০২০-২০২১ সনের জন্য ইজারা ডাকা হয়। প্রথম দফা টেন্ডারে সর্বোচ্চ ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকায় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘাটের ডাক পান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ গত ২৮-০৬-২০২০ইং তারিখে নথি নং-১৮.১১.০৯১৮.০৮৩.৪৪.৩৯.১৮/৮৫৫ স্মারকের সম্মতিপত্রের মাধ্যমে ইজারাদার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে ঘাট বুঝিয়ে দেন। ওই ঘাটে ঢাকা-দেওয়ানবাড়ী নৌপথে এমভি পানামা, এমভি সম্পদ, এমভি কর্ণফুলী-১,৩ এবং ঢাকা-হাতিয়া নৌপথের এমভি ফারহান-৩,৪ ও এমভি তাসরিফ-১,২ লঞ্চ ভিড়ানোর কথা। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের অবহেলা ও অজ্ঞাত কারণে লঞ্চগুলো বিশ্বরোডের মাথায় লঞ্চঘাটে বিড়ানো হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গাজীপুর কালুপুর বিশ্বরোড ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়ানোর কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ইজারাদার। লঞ্চগুলো যাতে বিশ্বরোড ঘাটে বেড়ে এজন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোঃ আনোয়ার হোসেন। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অজ্ঞাত কারণে এসব লঞ্চগুলো নির্দেশিত ঘাটে না ভিড়ে ফেরিঘাটসংলগ্ন ইলিশা-লক্ষ্মীপুর ঘাটে ভিড়ানোর ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। ইতিপূর্বে ছোট বড় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই এলাকার একাধিক যাত্রী বলেন, ঢাকাগামী এসব লঞ্চগুলো ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাটে বিড়ানোর নির্দেশ থাকার পরও ফেরীঘাট সংলগ্ন ইলিশা-লক্ষীপুর লঞ্চ ঘাটে বিড়ানো হচ্ছে। একই যায়গায় ফেরী, ছোট লঞ্চ ও ঢাকাগামী বড় লঞ্চ ভিড়ানোর কারণে যাত্রীদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও এই ঘাটে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনায়। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোন আমলে নিচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী যদি লঞ্চগুলো নির্দেশিত ঘাটগুলোতে ভিড়ানো হতো তাহলে যাত্রীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। ভুক্তভোগী ইজারাদার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাট ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছি। ওই ঘাটে ঢাকা-দেওয়ানবাড়ী নৌপথে এমভি পানামা, এমভি সম্পদ, এমভি কর্ণফুলী-১,৩ এবং ঢাকা-হাতিয়া নৌপথের এমভি ফারহান-৩,৪ ও এমভি তাসরিফ-১,২ লঞ্চ কাগজপত্রে ভিড়ানোর নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ আমার ইজারা নেওয়া বিশ্বরোড ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়িয়ে ফেরিঘাটসংলগ্ন লঞ্চঘাটে বিড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। ইলিশা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ ঘাটের সাথে ফেরিঘাট থাকায় সেখানে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো ভিড়ানোর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ওই ঘাটটি। সেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। আমার ঘাটে এসব লঞ্চ কেন বেড়ানো হচ্ছে না এ ব্যাপারে আমি বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান ও নদী বন্দর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিনকে অবহিত করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা এ ব্যাপারে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তবে এ ব্যাপারে আমি লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি, তারপরও তারা আমার ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়িয়ে তালবাহানা করছে। এই ঘটনার সমাধান চেয়ে আমি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছি। এসব লঞ্চ যদি নিয়মিত আমার ঘাটে না বেড়ে তাহলে বড় ধরনের লোসকান গুনতে হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অতি দ্রুত সরকারি নির্দেশিত ঘাটে লঞ্চগুলো যাতে বেড়ে সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান কাছে জানতে ফোন করলে তিনি বলেন, ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাটের নতুন ইজারাদার তার ঘাটে লঞ্চ ভিড়ানো হচ্ছে না বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমরা লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশি ঘাটগুলোতেই ভিড়ানোর জন্য বলেছি। মাঝে মধ্যে ২/১টি লঞ্চ ভিড়ালেও নিয়মিত তা ভিড়ানো হয় না। নতুন ইজারাদরকে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা হেড অফিসের নির্দেশে আমরা পরবর্তী এ্যাকশনে যাবো। তবে দুই ঘাটের পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রনে থাকে সে জন্য আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে আমরা এ বিষয়টি সমাধান করতে সক্ষম হবো।

আর্কাইভ

জুলাই ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« জুন  
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!