পুরুষের জটিল রোগের ৮টি লক্ষণ যা অবহেলা করা উচিত নয়

ছেলেরা রোগের উপসর্গ হেলায় উড়িয়ে দেন। কোনো কিছুকে গুরুত্ব যেনো দিতে চান না তারা। ফলে যে কোনো শারীরিক সমস্যাতেই একবারে শেষ মুহূর্তে ডাক্তারের কাছে যাওয়াটাই পুরুষের অভ্যাস। পুরুষরা নারীদের তুলনায় ডাক্তারের কাছে যান কম। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পুরুষরা সুস্থ আছেন। তবে কিছু উপসর্গ আছে যা অবহেলা করা উচিত নয়। তাই নিচের কোনো একটি লক্ষণ যদি প্রকাশ পায় দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। দেখে নিন জটিল রোগের লক্ষণ।১. নির্দিষ্ট স্থানে টাক

বয়স বাড়ার সঙ্গে কমবেশি সব পুরুষই চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত হন। তবে অনেকসময় এটা মারাত্মক রোগের লক্ষণও হতে পারে।
‘জার্নাল অফ ক্লিনিকাল অনকোলজি’র এক গবেষণা অনুযায়ী, মাথার সামনের অংশে এবং তালুতে চুল যাদের কমে যাচ্ছে তাদের প্রোস্টেটে টিউমার হওয়ার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। টাক পড়া ও প্রোস্টেট ক্যান্সার দুটারই কারণ হতে পারে শরীরে উচ্চমাত্রায় যৌন হরমোন। তাই চুল পড়ে যেতে থাকলে শরীরের কোথাও টিউমার আছে কিনা পরীক্ষা করাতে হবে।

২. রাতে প্রস্রাব বেশি

ঘন ঘন প্রস্রাব, হুট করে প্রচণ্ড প্রস্রাবের বেগ আসা, এমনকি শৌচাগারে যাওয়ার আগেই কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি প্রোস্টেইট’য়ের মারাত্বক সমস্যার লক্ষণ, যেমন- প্রোস্টেইট ক্যান্সার, প্রোস্টেইট ফুলে যাওয়া ইত্যাদি। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

৩. অণ্ডকোষে পিণ্ড দেখা দেওয়া

অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া বা পিণ্ড দেখা দেওয়া পুরুষের অতি পরিচিত সমস্যার মধ্যে একটি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিণ্ডটা নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে এটা অণ্ডকোষে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। যদি পিণ্ড দীর্ঘস্থায়ী হয়, ব্যথা করে কিংবা আগের পিণ্ডগুলোর তুলনায় অন্যরকম মনে হয়, তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৪. ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া

পুরুষের প্রজনন উর্বরতাজনীত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে এটি। ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়ার অর্থ হল- পুরুষের অণ্ডকোষ ঠিক মতো কাজ করছে না এবং হরমোন তৈরি করছে কম। ডাক্তারি ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘অ্যানোসমিয়া’। এটা ‘কালম্যান’স’ রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা পুরুষের শরীরে হরমোনের অভাবজনীত রোগ।

৫. যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া

বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষের যৌনক্ষমতা কমতে থাকে। তবে ‘জার্নাল অফ সেক্সুয়াল মেডিসিন’য়ের এক গবেষণা বলছে, চল্লিশে পা দেওয়ার আগেই প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের পুরুষাঙ্গের দৃঢ়তাজনীত সমস্যা দেখা যায়। মানে, শুধু বয়স নয়, মানসিক দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদিও যৌনক্ষমতা কমে যাওয়ার জন্য দায়ী।

৬. পুরুষাঙ্গের আকৃতিতে পরিবর্তন

শক্ত অবস্থায় পুরুষাঙ্গ কিছুটা বাঁকানো থাকাটাই স্বাভাবিক এবং জন্মগত। তবে শক্তাবস্থায় পুরুষাঙ্গের আকৃতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে, ব্যথা বা যে কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। কারণ এটি হতে পারে ‘পেরনি’স’ রোগের লক্ষণ। এই রোগে পুরুষাঙ্গে কোলাজেন দলা পাঁকিয়ে যায়, ফলে পুরুষাঙ্গ বাঁকা হয়ে যায়, সঙ্গমের সময় ব্যথাও হতে পারে।

সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে এটা আপনাতেই সেরে যায়। তবে জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

৭. পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে ব্যথা

এটি গেঁটেবাতের লক্ষণ। রোগটি নারী-পুরুষ দুই ক্ষেত্রেই হতে পারে। তবে পুরুষের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুন বেশি। বিশেষত, বয়স্ক পুরুষদের প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনের এই সমস্যা দেখা দেয়। যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ১৬ জনের মধ্যে একজন।

হাড়ের জোড়ে বাত হওয়াকে গেঁটেবাত বলা হয়, যা পায়ের বুড়া আঙ্গুলেই বেশি হয়। শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হওয়ার কারণে রক্ত ও হাড়ের জোড়ার চারপাশে সোডিয়াম সালফেটের স্ফটিক জমা হয়, ফলে গেঁটেবাত দেখা দেয়। সমস্যা মারাত্বক অবস্থা ধারণ করলে আক্রান্ত হাড়ের জোড়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে

৮. ম্যান বুবস

পুরুষের বুকে নারীদের মতো স্তন হওয়া তিনটি বিষয় ইঙ্গিত করে। প্রথমত- ওজন বেশি, সমাধান ওজন কমানো। দ্বিতীয়ত- ‘গাইনাকোমাস্টিয়া’, যা মূলত ‘টেস্টোস্টেরন’ ও ‘ইস্ট্রোজেন’ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। এজন্য চাই চিকিৎসকের পরামর্শ। তৃতীয়ত- যকৃতের সমস্যা। যকৃতের সমস্যা হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে দেখা দেয় ‘গাইনাকোমাস্টিয়া’। বয়স্কদের ‘ম্যান বুবস’ হওয়াটা অণ্ডকোষের সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র- দেহ.টিভি

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« আগষ্ট    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।