ভোলায় ইসকনের সমাবেশ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ॥ আল্টিমেটাম

কাজী মহিবুল্লাহ আযাদ, আমাদের ভোলা.কম ॥
ভোলার সার্কুলার রোডে বির্তকিত জমিতে হিন্দুত্ববাদি সংগঠন ইসকনের ৭ দিন ব্যাপি সমাবেশ বন্ধে এবং বাংলাদেশে ইসকনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ভোলার সর্বস্থরের তৌহিদি জনতা। বুধবার বিকেলে ভোলা শহরের হাঠখোলা জামে মসজিদের সামনে এই বিক্ষেভ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন মাও মিজানুর রহমান , মাও: তাজ উদ্দিন ফারুকি , মাও: আতাউর রহমান , মাও: তরিকুল ইসলাম , মাও: গোলাম মোর্শেদ ,মুফতি আবদুল মমিন , হাফেজ মাও: ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ ।
বক্তরা বলেন , ইসকন কোন ধর্মিয় সংগঠন নয় । বাংলাদেশ সাম্পদায়িক সাম্প্রীতির দেশ। এই দেশে মুসলিম, হিন্দু ,বৌদ্ধ ,খিষ্ট্রান সহ অন্যান্য ধর্মীয় লোকজন শান্তিুপুর্নভাবে বসবাস করে যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিরল । আমাদের পাশবর্তি দেশ ভারতে নির্মম ভাবে মুসলিম নিধন চলছে , মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন চলছে, চীনে উইঘুর মুসলিমদের উপর বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চলছে। কিন্তু বাংলাদেশে সংখালঘু সম্পদায় অনেক শান্তিতে আছে। কিন্তু এই শান্তি বিনষ্ট করতে ইহুদি ও হিন্দু উগ্রপন্থিদের যৌথ পরিকল্পনায় সৃষ্ট সংগঠন ইসকন শান্তি বিনষ্ট করতে পায়তারা করছে , যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌম বিনষ্ট করতে চায়। যার প্রমান কয়েকদিন আগে চট্রগ্রামে মুসলমান শিক্ষার্থীদের মাঝে খাদ্য বিতরন কর্মসুচি দেয় ইসকন। এসময় কোমলমতি মুসলমান শিশুদের খাওয়ার পুর্বে জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করে। এছারাও বেশ কয়েকটি দেশ বিরোধি কার্যক্রমে ইসকনের সম্পৃক্ততা আছে । এই উগ্রবাদি সংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি স্বরুপ । তাই অবিলম্বে এই উগ্র সংগঠন কে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবে ।
এসময় বক্তরা আরো বলেন দ্বীপজেলা ভোলা শান্তির এলাকা। এখানে বহিরাগত কেউ শান্তি বিনষ্ট করতে এলে তাদের কে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। এসময় তারা ভোলা সার্কুলার রোডে অনুষ্ঠিতব্য ইসকনের কার্যক্রম বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেন । অন্যথায় আগামি কাল সকালে মানববন্ধন সহ পরর্বতিতে আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী প্রদান করেন বক্তরা।
পরে দোয়া মুনাজাতের মাধ্যমে সমাবেশ শেষ হয় । দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাও: নুরে আলম ।

ফেসবুকে লাইক দিন

ভোলায় ঘাট রেখে বিপাকে ইজারাদার ॥ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে অন্য ঘাটে ভিড়ছে লঞ্চ বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ভোলা নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাট ২০২০-২০২১ সনের জন্য ইজারা ডাকা হয়। প্রথম দফা টেন্ডারে সর্বোচ্চ ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকায় মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘাটের ডাক পান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ গত ২৮-০৬-২০২০ইং তারিখে নথি নং-১৮.১১.০৯১৮.০৮৩.৪৪.৩৯.১৮/৮৫৫ স্মারকের সম্মতিপত্রের মাধ্যমে ইজারাদার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে ঘাট বুঝিয়ে দেন। ওই ঘাটে ঢাকা-দেওয়ানবাড়ী নৌপথে এমভি পানামা, এমভি সম্পদ, এমভি কর্ণফুলী-১,৩ এবং ঢাকা-হাতিয়া নৌপথের এমভি ফারহান-৩,৪ ও এমভি তাসরিফ-১,২ লঞ্চ ভিড়ানোর কথা। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের অবহেলা ও অজ্ঞাত কারণে লঞ্চগুলো বিশ্বরোডের মাথায় লঞ্চঘাটে বিড়ানো হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গাজীপুর কালুপুর বিশ্বরোড ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়ানোর কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ইজারাদার। লঞ্চগুলো যাতে বিশ্বরোড ঘাটে বেড়ে এজন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোঃ আনোয়ার হোসেন। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অজ্ঞাত কারণে এসব লঞ্চগুলো নির্দেশিত ঘাটে না ভিড়ে ফেরিঘাটসংলগ্ন ইলিশা-লক্ষ্মীপুর ঘাটে ভিড়ানোর ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। ইতিপূর্বে ছোট বড় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই এলাকার একাধিক যাত্রী বলেন, ঢাকাগামী এসব লঞ্চগুলো ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাটে বিড়ানোর নির্দেশ থাকার পরও ফেরীঘাট সংলগ্ন ইলিশা-লক্ষীপুর লঞ্চ ঘাটে বিড়ানো হচ্ছে। একই যায়গায় ফেরী, ছোট লঞ্চ ও ঢাকাগামী বড় লঞ্চ ভিড়ানোর কারণে যাত্রীদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও এই ঘাটে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনায়। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোন আমলে নিচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী যদি লঞ্চগুলো নির্দেশিত ঘাটগুলোতে ভিড়ানো হতো তাহলে যাত্রীদের জন্য অনেক সুবিধা হতো। ভুক্তভোগী ইজারাদার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাট ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৪১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছি। ওই ঘাটে ঢাকা-দেওয়ানবাড়ী নৌপথে এমভি পানামা, এমভি সম্পদ, এমভি কর্ণফুলী-১,৩ এবং ঢাকা-হাতিয়া নৌপথের এমভি ফারহান-৩,৪ ও এমভি তাসরিফ-১,২ লঞ্চ কাগজপত্রে ভিড়ানোর নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ আমার ইজারা নেওয়া বিশ্বরোড ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়িয়ে ফেরিঘাটসংলগ্ন লঞ্চঘাটে বিড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। ইলিশা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ ঘাটের সাথে ফেরিঘাট থাকায় সেখানে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো ভিড়ানোর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ওই ঘাটটি। সেখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। আমার ঘাটে এসব লঞ্চ কেন বেড়ানো হচ্ছে না এ ব্যাপারে আমি বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান ও নদী বন্দর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিনকে অবহিত করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা এ ব্যাপারে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। তবে এ ব্যাপারে আমি লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি, তারপরও তারা আমার ঘাটে লঞ্চগুলো না ভিড়িয়ে তালবাহানা করছে। এই ঘটনার সমাধান চেয়ে আমি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছি। এসব লঞ্চ যদি নিয়মিত আমার ঘাটে না বেড়ে তাহলে বড় ধরনের লোসকান গুনতে হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অতি দ্রুত সরকারি নির্দেশিত ঘাটে লঞ্চগুলো যাতে বেড়ে সে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান কাছে জানতে ফোন করলে তিনি বলেন, ইলিশা গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোডের মাথা লঞ্চঘাটের নতুন ইজারাদার তার ঘাটে লঞ্চ ভিড়ানো হচ্ছে না বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমরা লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশি ঘাটগুলোতেই ভিড়ানোর জন্য বলেছি। মাঝে মধ্যে ২/১টি লঞ্চ ভিড়ালেও নিয়মিত তা ভিড়ানো হয় না। নতুন ইজারাদরকে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা হেড অফিসের নির্দেশে আমরা পরবর্তী এ্যাকশনে যাবো। তবে দুই ঘাটের পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রনে থাকে সে জন্য আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে আমরা এ বিষয়টি সমাধান করতে সক্ষম হবো।

আর্কাইভ

জুলাই ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« জুন  
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!