খোলা চিঠি

খোলা চিঠি পত্রিকার সাহিত্য কলাম , প্রকাশিত লেখার দ্বায়িত্ব সম্পূর্ন লেখকের

একটি সুসংবাদ আর একটি দুঃসংবাদ। যারা বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু হার বেশি আর সুস্থতার হার কম দেখে ভয় পাচ্ছেন তাদের জন্যে সুসংবাদ। কারণ প্রকৃত মোট করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা এর চেয়ে অনেকবেশী হতে পারে। যারা মৃদু লক্ষণ নিয়ে করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত তাদের বেশীর ভাগই টেষ্ট এর আওতার বাইরে থেকে শুধু মাত্র খুব সিরিয়াস করোনা উপসর্গ রয়েছে অথবা ক্রিটিক্যাল রুগী শুধু তারাই করনা টেস্ট এর আওতায় আসছেন এমন সম্ভাবনা খুব বেশী। যা আমাদের দেশের জনসংখ্যার সাথে টেষ্ট এর হার থেকে কিছুটা আঁচ করতে পারেন। কারন যেসকল দেশে এক হাজারের অধিক রোগী করোনা ভাইরাসে সনাক্ত হয়েছে তাদের টেষ্ট এর হারের মধ্যে বাংলাদেশের টেষ্ট এর হার সর্বনিন্ম (একটি দেশ ব্যতীত- আলজেরিয়া)। হয়তোবা অনেকেই বলতে পারেন আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা , তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমাদের আশেপাশের অথবা আমরা প্রায়শই যেসকল দেশ নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি অনুগ্রহ পূর্বক সেসকল দেশের টেষ্ট এর হারটা একটু কষ্ট করে দেখে নিবেন, সেই পরিসংখ্যান দিলে সকলেরই মন খারাপ হবে আর অনেক এর সময় নষ্ট হবে তাই সেই পরিসংখ্যান আর না দেই , লেখার শেষে করোনা ভাইরাসের লাইভ আপডেট দেয় এমন এক বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট এর লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি যাচাই করে নিবেন। প্রায় সময়ই দেশের ঊর্ধ্বতন ব্যাক্তিবর্গ এর কাছ থেকে শুনি দেশ নাকি সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে গেছে, আবার শুনি করোনা নিয়ে আমাদের যোর প্রস্তুতি ছিল আবার আমরা নাকি করোনা ভাইরাস এর চেও শক্তিশালী। তাদের এই বক্তব্য নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু আমার জানার খুব ইচ্ছা আমাদের এত শক্তি সামর্থ্য থাকার পরেও আমাদের টেষ্ট হারের কেনো এত দুর অবস্থা। আর দুঃখের আর আতঙ্কের বিষয় হল: ১. আজ যারা মৃদু লক্ষণ নিয়ে করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হয়েও শনাক্তের বাইরে থাকছে , তাদের মধ্যে অনেকেই তাদের নিজ শরীরের শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বলে শনাক্তের বাইরেই থেকে যাবেন, কিন্তু তিনি শনাক্তের বাইরে থাকলেও তিনিকি করোনা ছড়ানো বন্ধ রাখবেন? তিনি নিজের অজান্তেই যে কত মানুষের মাঝে সংক্রমণ ছড়াবেন সেই হিসেব কেউই দিতে পারবে না ।আর তার দ্বারা যে সকল মানুষ আক্রান্ত হবে তাদের মধ্যে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল তাদের পরিণতি কতটা ভঁয়াবহ হবে তাকি আমরা কেউ উপলব্ধি করতে পারছি। ২.অনেকে হয়ত আজ মৃদু উপসর্গের কারণে টেষ্ট এর বাইরে থাকলেও ৫/৬ দিন পরে সিরিয়াস কন্ডিশন নিয়ে বাধ্য হোয়ে টেষ্ট এর মাধ্যমে সরকারী শনাক্তের লিষ্ট এ যোগ হবে। কিন্তু যেই ব্যাক্তি মৃদু লক্ষণ এর কারনে টেষ্ট এর বাইরে থাকলেন আর ৫/৭ দিন পরে টেষ্ট করলেন , তারা ওই দিন গুলতে কি পরিমান মানুষের মাঝে সংক্রমণ ছড়িয়ে আসবেন সেই হিসাব একটু নিজেরাই করে নিবেন। আর এই সংক্রমিত ব্যাক্তিরা কতজনকে সংক্রমিত করে যে টেষ্ট এর আওতায় আসবেন তার হিসাব আল্লাহ্ যেন আমাদের না করান। তাই পরিশেষে কর্তা ব্যাক্তি দের উদ্দেশ্যে একটি কথাই বলতে চাই , যত দ্রুত সম্ভব টেষ্ট এর সংখ্যা বাড়ান, নুন্যতম লক্ষণ সম্পন্ন ব্যাক্তিকে টেষ্ট এর আওতায় আনার ব্যাবস্থা করেন। সম্ভব হলে অধিক সংক্রামিত এলাকার লক্ষণ বিহীন ব্যাক্তিদের ও টেষ্ট এর আওতায় আনেন,অনেক পরিসংখ্যানই দেখা গিয়েছে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ করোনা সংক্রামিত ব্যাক্তির উপসর্গ খুব মৃদু অথবা কোন লক্ষনই থাকে না । আজ যদি ১ জন সংক্রামিত ব্যাক্তি টেষ্ট এর বাইরে রয়েজায়, সে ৭ দিন পর ৭০ জন রোগীকে আপনাদের সামনে টেষ্ট এর জন্য দার করাবেন নিজের অজান্তেই। আর যাদের ভিতরে নূণ্য থেকে নুণ্য তম করোনা ভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে তারা দয়া করে টেষ্ট করানোর চেষ্টা করুন, টেষ্ট করতে পারেন আর না পারেন,উপসর্গের প্রক্কাল থেকে পুরপুরি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত নিজেকে সেলফ আইসোলেটেড করুন, আর সম্ভব হলে ডক্টর এর পরামর্শ অনুযায়ী অথবা উপসর্গ অনুযাই ঔষুধ খেতে থাকুন । নিজ পরিবারকে নিরাপদ রাখুন, দেশকে নিরাপদ রাখুন

লেখক : আশফাক আমিন খান মাহি, প্রকৌশলী(সিভিল), ভোলা।

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯  

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।