মনপুরার মেঘনার ডেঞ্জারজোনে ২০ স্থানে অনিরাপদ যানে যাত্রী পারাপার, যে কোন সময় প্রাণহানীর আশংকা

সাইফুদ্দিন ছোটন , আমাদের ভোলা.কম॥

ভোলার মনপুরার মেঘনার ডেঞ্জার জোনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নৌপথের ২০ স্থানে অনরিাপদ নৌযানে (মাছ ধারার ট্রলার) যাত্রী পারাপার করছে প্রভাবশালী মহল। এছাড়াও গত ১৫ দিন যাবত জেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নিরাপদ বাহন সীট্রাক বন্ধ রেখে ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে টেন্ডারে পাওয়া সীট্রাক কর্তৃপক্ষ। এতে যে কোন সময় নৌ-দুঘর্টনায় ঘটে প্রাণহানীর আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, মেঘনায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঞ্জারজোন ঘোষনা করে সরকার। এই সময় মেঘনায় বেক্রসিং সনদধারী নৌযান ব্যতিত সকল প্রকার নৌযান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে।

ভোলা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারি পরিচালক (বন্দর কর্মকর্তা) মোঃ কামরুজ্জামান জানান, বেক্রসিং সনদ ব্যতিত সকল প্রকার নৌযান চলাচলে সরকারী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মেঘনায় নিরাপদ নৌযান চলাচলে ইতিমধ্যে ট্রাকফোর্স গঠন করা হয়েছে। দ্রুত মেঘনায় চলাচলকারী অনিরাপদ নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে মনপুরা উপকূলের ঘুরে দেখা গেছে, হাজিরহাট ঘাট থেকে চরফ্যাসনের বেতুয়া, হাজিরহাট ঘাট থেকে মঙ্গলসিকদার, হাজিরহাট ঘাট থেকে কলাতলীর চর, হাজিরহাট ঘাট থেকে নোয়াখালীর ৪ নম্বর ঘাট, মাষ্টারহাট ঘাট থেকে নোয়াখালীর ৪ নম্বর ঘাট, মনপুরা থেকে কলাতলীরচর, মনপুরা থেকে কাজীরচর, মনপুরা থেকে নোয়াখালীর ৪ নম্বর ঘাট, জংলারখাল থেকে কাজীর চর, জনতা থেকে চরফ্যাসনের বেতুয়া, জনতা থেকে কলাতলীর চর, সূর্যমুখী থেকে হাতিয়া, তালতলা থেকে হাতিয়া, তালতলা থেকে নোয়াখালীর ৪ নম্বর ঘাট, হাজিরহাট ঘাট থেকে চর সামসুদ্দিন, রিজিরখাল থেকে নোয়াখালীর ৪ নম্বর ঘাট, রিজিরখাল থেকে কাজীর চর, জংলারখাল থেকে কলাতলীর চর, জংলারখাল থেকে হাতিয়া, জংলার খাল থেকে কাজীর চরে ফিটনেস বিহীন ও বেক্রসিং সনদ বিহীন মাছ ধরার ট্রলারে, কোথাও এমএলএফ টাইফ লঞ্চে করে নৌপথে যাত্রী পারাপার করছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল।

মনপুরা সরকারি হাজিরহাট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, জেলার সাথে নৌপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সীট্রাক বন্ধ রেখে টেন্ডারে পাওয়া সীট্রাক কর্তৃপক্ষ ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে। এই দ্বীপের মানুষ বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ ছোট ছোট মাছ ধরার ট্রলারের মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে। সরকার একদিকে নৌ-নিরাপদ দিবস পালন করবে, অন্যদিকে প্রভাবশালী মহল অনিরাপদ বাহনে যাত্রী পারাপার করবে তা হয়না। এদিকে প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার। তানাহলে অতীতের মত নৌ-দুঘর্টনায় প্রানহানীর আশংকা রয়েছে।

ভোলা বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক মোঃ নাছিম জানান, লোকবল সংকটের কারনে মেঘনা থেকে অনিরাপদ নৌযান বন্ধ করা যাচ্ছেনা। তারপরও সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রশাসনকে অভিযান পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে।
এব্যাপারে বরিশাল বিআইডব্লিউটিসির সহকারি জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, মনপুরা- তজুমুদ্দিন রুটে যাত্রীবাহি সীট্রাক এসটি শহীদ শেখ কামাল যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এই রুটে যাতায়াত করবে যাত্রীবাহি সিট্রাকটি।

এব্যাপারে মনপুরা উপজেলার নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ জানান, মেঘনায় সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনিরাপদ নৌযানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

ফেব্রুয়ারি ২০২৩
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জানুয়ারি    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮  

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।