বরিশাল কারাগারে কয়েদিকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক , আমদের ভোলা.কম।

বরিশাল  কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি কবির সিকদার মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী হনুফা বেগম। সোমবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবের হল রুমে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এসময় লিখিত বক্তব্যে হনুফা বেগম বলেন, ‘পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার বাসিন্দা কবির সিকদার একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন।

সে বরিশাল কারাগারে কাজ করতো। আমার স্বামী কবিরকে হত্যা করা হয়েছে নাকি আত্মহত্যা সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমার দীর্ঘ বিশ্বাস সে আত্মহত্যা করতে পারে না। সে তার স্ত্রী ও সন্তানদেও খুবই ভালোবাসতেন। জেলে যখন তার সাথে দেখা করতাম তখনই কবির আমাদের সাহস যোগাতো। কিছুদিন আগে যখন তার সাথে দেখা করি তখন তার জামিনের কথা বলি। সেই মানুষটা কিভাবে আত্মহত্যা করে সেটা আমি বুঝতে পারছি না। ২৮ ফেব্রুয়ারী আমরা তার সাথে দেখা করতে আসি। সকাল নয়টা থেকে পাঁচবার টিকিট কাটি কিন্তু তবুও তার দেখা পাওয়া যায়নি।

পরে জেল থেকে আমাদের জানানো হয় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কখনো বলে টিকিট হারিয়ে গেছে। বিকাল ৪টার দিকে এসে বলে কবির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে অসুস্থ্য অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর হাসপাতালে থাকা পুলিশরা আমাদেরকে লাশ ঘরের দিকে নিয়ে যায় এবং আমাদের লাশ দেখায়, জানায় সে আত্মহত্যা করেছে। সে যদি আত্মহত্যা করেই থাকে তাহলে কেন আমাদেরকে সকাল থেকে হয়রাণি করা হয়েছে।

এছাড়া পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর আমরা সন্দেহজনক কিছু তথ্যও পাই। এছাড়া কবির সিকদারের বুকে কালো দাগ ও দুই হাতে কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়।’ এসময় তিনি আরো বলেন, কবির সিকদার (৪০) ভোলা জেলার মনপুরা থানা এলাকায় চুরির ঘটনায় ১৯৯৯ সালের একটি মামলায় ১৯ বছর পর ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর গ্রেফতার হয়। ওই ঘটনায় তার ১০ বছরের সাজা হয়। এরপর তাকে পিরোজপুর জেলে নেয়া হয় এবং পরে বাদীর স্থানীয় ঠিকানা অনুযায়ী ভোলা জেলে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ৩/৪ মাস থাকার পর কবিরের অসুস্থ্যতার কারণে তাকে বরিশাল কারাগারে পাঠানো হয়।

সে বরিশাল কারাগারে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক ছিলো সে। মৃত্যুর সাতদিন পূর্বে দেখা করে তাকে জানানো হয় ৫ই মার্চ তার জামিন হয়ে যাবে। সেই লোক কিভাবে আত্মহত্যা করে সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও ঘটনার সাথে জড়িতদেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।

সংবাদ সম্মেলনে হনুফা বেগমের সাথে উপস্থিত ছিলেন কবির সিকদারের ৫ বছর বয়সী মেয়ে সাইমুনা ও ১০ মাস বয়সী মেয়ে মাইশা ও মৃত কবির সিকদারের ভাই আব্দুল জলিল। উল্লেখ্য, পহেলা মার্চ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কবির সিকদার গলায় গামছা পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হয়।

(সূত্র – দৈনিক মতবাদ )

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

অক্টোবর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« সেপ্টেম্বর  
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১ 

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।