উপকূলের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সামর্থ উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সোহেল মাহমুদ,ঢাকা, ১৯ ফেব্রæয়ারি ২০২০: উপকূলের স্থানীয় সাংবাদিকগণ স্বপ্রণোদিত হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে কাজ করেন তা সমগ্র দেশের স্থায়িত্বশীলতার অন্যতম প্রধান নিয়ামক। কারণ, পরিবেশ সুরক্ষার ভ্যানগার্ড হিসেবে তারা দায়িত্ব পালন করেন। আজ তোপখানা রোডস্থ সিরডাপ মিলনায়তনে “উপকূলে পরিবেশ সাংবাদিকতার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ” শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক অব বেঙ্গল ডেল্টা এবং কোস্ট ট্রাস্ট। সভায় বক্তব্য রাখেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ বিসিএএসের প্রধান নির্বাহী জনাব ড. আতিক রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)’র প্রধান নির্বাহী জনাব সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী জনাব শামছুদ্দোহা, বাপার যুগ্ম সম্পাদক ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখ। মতবিনিময় সভা সঞ্চালন করেন এটিএন বাংলার সিনিয়র নিউজ এডিটর মানস ঘোষ এবং সভাপতিত্ব করেন কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ। মতবিনিময় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের যুগ্ম পরিচালক বরকত উল্লাহ মারুফ। মূল বক্তব্যে যেসব সুপারিশ তুলে ধরা হয় তা হচ্ছে, ১. উপকূলীয় অঞ্চলের স্থানীয় সাংবাদিকদের সামর্থ উন্নয়নে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে, যাদের হয়ে তারা কাজ করেন। ২. সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহও ভূমিকা পালন করতে পারে। ড. আতিক রহমান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের পরিবেশ সাংবাদিকদের বিজ্ঞান চেতনার পাশাপাশি লেখার কাজেও দক্ষ করে তুলতে হবে। তাহলে তার কোনো লেখাকে আর কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব-দ্বীপ অঞ্চলের অবস্থান পানি প্রবাহের দিক থেকে আমাজনের পরেই। এই বিশাল সম্পদকে টেকসই করতে হলে পরিবেশ সাংবাদিকদের উপরই আমাদের নির্ভর করতে হবে। তাদের সামর্থ উন্নয়ন করতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)’র প্রধান নির্বাহী জনাব সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা পরিবেশ রক্ষার জন্য আইনের আশ্রয় নেই এবং অনেক সময় সেই আইনী লড়াই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিপক্ষে যায়। আদালত আমাদের সুরক্ষা দেয় বলে আমরা নিরাপদ বোধ করি। কিন্তু, কেউ যদি ক্ষমতাবলে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পরিবেশ বিধ্বংসি কাজ চালিয়ে যেতে থাকে তখন আমরা ঝুঁকির সম্মুখীন হই। সিপিআরডি-ও প্রধান নির্বাহী শামছুদ্দোহা বলেন, মূলধারার উন্নয়নের যে ধারণা সেখানেই সমস্যার ভিত্তি। উন্নয়নের প্রধান ধারা পরিবেশ বান্ধব নয়। অনেক সময় কেবলমাত্র আর্থিক প্রবৃদ্ধিকেই উন্নয়ন হিসেবে গণ্য করা হয়। তখন বনকে অলাভজনক ধরে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাÐকেই উন্নয়ন বলে ধরা হয়। পরিবেশ সাংবাদিকতা একে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা জনগণের স্বার্থের পক্ষে। মতবিনিময় সভার সঞ্চালক এটিএন বাংলার সিনিয়র নিউজ এডিটর মানস ঘোষ বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সাংবাদিকদের ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হলে আমাদের নিজেদের একটি নেটওয়ার্ক থাকতে হবে। এবং জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক অব বেঙ্গল ডেল্টা সেই কাজটি করছে। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব কালে কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো বরাবরই উপকূলের পরিবেশ সাংবাদিকদের পৃষ্ঠপোষণ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। কারণ, স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এদের সহযোগিতা আমাদের সবার আগে প্রয়োজন। মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার, ভোলা, ঝালকাঠি, বাগেরহাট এবং পিরোজপুরের স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিক প্রতিনিধি তাদের কাজের প্রতিবন্ধকতা সমূহ তুলে ধরেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

মে ২০২০
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« এপ্রিল  
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১ 

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।