সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে দুদক আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক, আমাদের ভোলা.কম।

দুর্নীতিবাজদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দুদক আতঙ্ক। কখন কোথায় দুদক হানা দেয় এ ভয়েই অস্থির সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরাও এ আতঙ্কের বাইরে নয়।

বর্তমান সময়ে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ২৪ ঘণ্টাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। দুর্নীতিবাজদের হাতেনাতে ধরার জন্য নজরদারি ও আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযানও চলছে।

এ নিয়ে দুর্নীতিবাজদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দুদক আতঙ্ক। কখন কোথায় দুদক হানা দেয় এ ভয়েই অস্থির সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরাও এ আতঙ্কের বাইরে নয়।

বিশেষ করে দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে কে কখন ফোন করে কী তথ্য দিয়ে দেয় এ আতঙ্কই কাজ করছে বেশি। পাশাপাশি দুদক কর্মকর্তাদেরও কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে আসামির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করায় এক পরিচালককেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ দুদকের এমন কঠোর নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মধ্যেও থেমে নেই বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের (বিএসইসি) অনিয়ম-দর্নীতির দৌরাত্ম্য।

জানা গেছে, ৭২টি শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে সম্প্রতি নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি। চতুরতার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নিয়েই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ না করেই নিজেদের মতো করে অস্বচ্ছ উপায়ে পরীক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিরা।

যদিও মন্ত্রণালয়ের দুজন প্রতিনিধি পরীক্ষা গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তদারকিতে ছিলেন তবুও চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কে জড়িয়ে অস্বচ্ছ উপায়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। বিএসইসির একটি মহলের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিএসইসি কর্তারা নিজেদের প্রার্থীকে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার জন্যই বুয়েট ও আইবিএর মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকরিপ্রার্থীর বক্তব্যের সঙ্গে অভিযোগের মিলও পাওয়া যায় অনেকটাই। ওই চাকরিপ্রার্থী জানান, তিনি লবিয়িংয়ের জন্য বিএসইসিরই পরিচিত কোনো একজনের মাধ্যমে কথার বলার চেষ্টা করেন।

কিন্তু টাকা ছাড়া হবে না এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করায় তিনি চাকরির আশা ছেড়ে দেন। তিনি জানান, যেভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে- পরীক্ষা গ্রহণের এমন পদ্ধতি আমার জীবনে আর দেখিনি। অভিভাবক ও শিক্ষকরাই তাদের পছন্দের প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে উত্তর বলে দিচ্ছেন উত্তরপত্র দেখে।

অন্যদিকে দুদকও অভিযোগ প্রাপ্তির এক বছর পার হলেও নেয়নি কোনো ব্যবস্থা। চলমান এ কার্যক্রমের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিটি দপ্তর ২৪ ঘণ্টাই আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।

হটলাইন হোক বা লিখিত অভিযোগ হোক- দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো অভিযোগই আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। আপনারা (গণমাধ্যম) যেটাকে অভিযান বলছেন, আমরা সেটাকে বলছি- কাজ। দুদক যেসব আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে তাতে দেখবেন দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয় না বরং সতর্ক করা হয়।

এসব অভিযান নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।দুর্নীতি বন্ধে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সর্বশক্তিও নিয়োগ করেছে কমিশন।

নিয়োগবাণিজ্য, ভর্তিবাণিজ্য, কমিশনবাণিজ্য, ফাইল আটকে রাখা, ঘুষ গ্রহণ ও প্রদানসহ যেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাবে সেখানেই দুদক হাজির হয়ে যাবে।দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে মন্ত্রী এমপিদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযোগ পেলেই অনুসন্ধান শুরু করব। দেখব এবং ধরব। কিন্তু অভিযোগ কই, আমরা তো এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাচ্ছি না। দুদকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযান নিয়ে সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন. কমিশনের প্রতিটি অভিযানই আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে।

কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করতে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক আইন অমান্যকরণ দন্ডনীয় অপরাধ, যা কমিশনের তফসিলভুক্ত অপরাধও। তাই আইন অমান্য করে জনগণের ক্ষতিসাধন কিংবা ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করা হলে আরও কঠোর আইনিব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া বর্তমান সরকারের সবকটি অঙ্গীকারের মধ্যে অন্যতম একটি। গত ৭ জানুয়ারি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার বক্তব্যে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়াঁরি উচ্চারণ করেন।

(সূত্র – ঢাকা টুডে)

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০২২
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্র
« আগষ্ট  
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।