বাংলাদেশকে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোারামের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ ও কৌশল গ্রহণ করতে হবে

সোহেল মাহমুদ,ভ্রাম্যমান প্রতিনিধ
আজ জাতীয় রিপোর্টাস ইউনিটি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লাইমেট এডভোক্যাসি নেটওয়ার্কের ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো কপ-২৫ জলবায়ু সম্মেলনের ফলাফলকে হতাশাজনক বলে সমালোচনা করে এবং বলেন যে, এটি আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে প্রত্যাশিত ফলাফল আনয়নে ব্যর্থ হওয়ায় উক্ত জলবায়ু সম্মেলনের প্রতি স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু বিপদাপন্ন (LDC এবং MVCs) দেশগুলোর আস্থা হ্রাস পেয়েছে। তারা আরও বলেন যে, এই সম্মেলনের ফলাফল থেকে এটা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, কপ মূলত দূষণকারী দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার কাজ করছে। এমতবস্থায় সরকারকে আগামী ডিসেম্বর ২০২০ এ অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনে (কপ ২৬) ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোারামের (Climate Vulnerable Forum-VCF) বা সিভিএফ এর মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়ার কৌশল গ্রহন করতে হবে, কারন সম্প্রতি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সিভিএফ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ সরকারকে নিজস্ব সক্ষমতা, স¤পদ ও অর্থায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল গ্রহণ এবং বাস্তবয়নের সুপারিশ করেন।
“মাদ্রিদ জলবায়ু সম্মেলন এবং নাগরিক সমাজের পর্যবেক্ষণ” শিরোনামে উক্ত সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জনাব রেজাউল করিম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্স স্ট্যাডিস (বিসিএএস) এর নির্বাহী পরিচালক জনাব ডঃ আতিক রহমান,  সেন্টার ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুডের জিয়াউল হক মুক্তা, সিপিআরডি এর প্রধান নির্বাহী মোঃ শামসুদ্দোহা, বাংলাদেশ ক্লাইমেট জার্নালিস্ট ফোরামের মোঃ মোতাহার হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে মাদ্রিদ জলবায়ু সম্মেলনের ফলাফলের উপর পর্যবেক্ষণসমুহ উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের উপ-পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক আমিনুল হক বলেন, মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত কপ-২৫ ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ সময় ধরে চলা জলবায়ু সম্মেলন হলেও অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এটি কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি এবং সার্বিকভাবে আয়োজনটি হতাশার মাধ্যমেই শেষ হয়েছে। প্রধান দূষণকারী দেশগুলো কীভাবে ২০২০ সালের মধ্যের তাদের গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের উচ্চাকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে করবে সেই পরিকল্পনা উত্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি (Loss & Damage) ব্যবস্থাপনায় অর্থায়নের ব্যাপারে উন্নত দেশগুলো তাদের দেয়া প্রতিশ্রæতি ভঙ্গ করেছে। অথচ অধিক বিপদাপন্ন ও স্বল্পোন্নত  দেশগুলো তাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিশ্রæতি প্রত্যাশা করেছিল। যে কারনে, প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য একটি পূর্নাঙ্গ রুলবুক (Rulebook) এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
আমিনুল হক আরও বলেন, সম্মেলনের গুরুত্বপুর্ন বিষয়সমূহের উপর আলোচনায় উন্নত এবং অধিক বিপদাপন্ন দেশগুলোর মধ্যে গভীর বিভাজন এবং মতবিরোধের ফলে ২০২০ সালের জলবায়ু সম্মেলনের আলোচনা-সমঝোতাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং একটি কার্যকরি সমাধান (জবধষ ঝড়ষঁঃরড়হ) প্রনয়ণের অনিশ্চয়তাও দেখা দিতে পারে। সুতরাং সরকারে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে এবং নিজস্ব সক্ষমতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু কৌশলসমূহ নির্ধারণ/ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ডঃ আতিক রহমান বলেন, এইসকল লোক দেখানো আলোচনা-সমঝোতায় বিশ্বের বিপদাপন্ন মানুষ, দেশ ও গ্রহের নিরাপদ করার চেয়ে রাজনীতি ও জীবাশ্ম-জ্বালানীর স্বার্থ বড় হয়ে উঠেছে। এই অপরাজনীতি করছে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, ব্রাজিলের মত ধনী দেশগুলো এবং তারা আবারো বিজ্ঞানকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বিপাদান্ন মানুষকে রক্ষা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞান যা বলছে এবং জনগণ যা প্রত্যাশা করছে উন্নত দেশুগুলো তা উপেক্ষা করে আসছে।
জিয়াউল হক মুক্তা বলেন, কিছু উন্নত দেশ এবং অগ্রসর উন্নয়নশীল দেশের আতাতের ফলে আমরা প্যারিস চুক্তি থেকে CBDR(Common but Differentiated Responsibility) নীতিমালাটি হারিয়ে ফেলি। এর ফলে অতি বিপদাপন্ন দেশগুলোর আলাচনা এবং সমঝোতার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং পাশাপাশি প্যারিস চুক্তিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার নীতি বিলুপ্ত ঘটে। তিনি সরকারকে ভবিষ্যতে কপ আলোচনায় এসকল উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে দুরে থেকে এলডিসি এবং জলবায়ু বিপদাপন্ন দেশগুলোকে সাথে নিয়ে ফোরাম গঠনের আহবান জানান।
মোঃ শামসুদ্দোহা বলেন, এবারের জলবায়ু সম্মেলন এক দৃষ্টিকোন থেকে সফল হয়েছে বলা যায়, কারন উন্নয়নশীল দেশগুলো অতি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে বিশেষ করে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমনের রিপোর্টিং করার ক্ষেত্রে , দ্বৈত গননা এড়িয়ে যাওয়া ও বর্ধিত  গ্রীণ হাউজ গ্যাস নির্গমন লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন এবং WIM (ওয়ারস ই¤িøমেন্টশন মেকানিজম) পর্যালোচনা ও পরিচালনা নীতি করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ছাড় দেয়নি। এক্ষেত্রে, সরকারকে  নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের একত্রিক করে বৃহত্তর আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর প্রস্তুতির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলনে , যুক্তরাজ্যের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে স¤পর্ক উন্নয়ন এবং শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে গøাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য, পরবর্তী কপ সম্মেলন আরো বেশি কার্যকর এবং সফল করা যেতে পারে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

জুলাই ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« জুন    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।