পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনা বিকেন্দ্রীকরনের দাবী

নিউজ ডেস্ক, আমাদের ভোলা.কম।

সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে দেশের জলবায়ু সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাঁধ নির্মাণ এবং মেরামতের জন্য বাজেট বরাদ্দ ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের দাবি করেছেন সুশীল সমাজ এবং জলবায়ু নিয়ে কাজ করা কয়েকটি নেটওয়ার্ক সংগঠন। তাঁরা বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশও করেন, কারণ এটি বাঁধ ব্যবস্থাপনার খরচ কমিয়ে আনতে কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদে টকেসই বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সভাপতি ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী এবং একই সংগঠনের আরিফ দেওয়ান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শহীদউদ্দিন ছোটন, খুলনার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমরি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, জলবায়ু ফোরামের সভাপতি আশিক ইলাহী, হাতিয়ার মো. রফিুকল ইসলাম এবং সন্দ্বীপের শামসুল ইসলাম। এতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে আগত অনেকে বক্তৃতা রাখেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে আরিফ দেওয়ান বলেন যে, প্রয়োজনীয় বাঁধের অভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ জীবন-জীবিকার সুযোগ হারাচ্ছেন এবং বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন যেটা এক নতুন সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমালোচনা করে বলেন, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একটি দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকূলীয় জনগণের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাব আছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিকেন্দ্রীকরণের দাবি জানান। তাঁর উত্থাপিত প্রধান কয়েকটি সুপারিশ হলো: (১) পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি করা, (২) বাঁধের পরিকল্পনা, নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়াতে নির্দলীয় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, এবং (৩) বাজেট সরাসরি উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে বরাদ্দ করা, যাতে প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে সক্ষম হয়।

আশিক এলাহী বলেন, পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় বাঁধের নষ্ট হয়ে যাওয়ার ধরণ এবং কারণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। সেটা বিবেচনা করেই বাঁধগুলো মেরামতের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বাঁধ নির্মাণ এবং ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর কার্যকর করতে উপকূল উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠার পাশাপশি পাশপাশি বাঁধ ব্যবস্থানায় স্থানীয় জনগণকে স¤পৃক্ত করার দাবি জানান।

শহীদ উদ্দিন ছোটন, চেয়ারম্যান, বড়ঘোপ ইউনিয়ন বলেন বাধঁ নির্মানের নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা হয় কেন্দ্রেীয়ভাবে শুধুমাত্র পানি প্রবাহের পর্যবেক্ষনের ভিত্তিতে যার সাথে স্থানীয় জনগনের চাহিদার সাথে খুবই কম সম্পর্ক তাকে। তিনি বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পলনার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগনের মতামত গ্রহণ করার পরামর্শ দেন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে আলাদা তহবিল বরাদ্দ দেওয়ার আহবান জানান। তিনি আর বলেন যে, স্থানীয় জনগনের অংশগ্রহনে এবং স্থানীয় লাগসই প্রযুক্তিতে বাধঁ নির্মান ও ব্যবস্থাপনায় খরচ কম এবং কম সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব। এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা দেখেছি যে, বাঁধ ব্যবস্থাপনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ ও দরপত্র প্রক্রিয়া বেশ জটিল এবং সময় সাপেক্ষ বিষয়। আর তাই বাঁধ মেরামতের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে না রেখে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে দিতে হবে।

মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাঁধ ব্যবস্থাপনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্বলতার কারণে বাঁধছসমুহহের উচ্চতা হ্রাস পেয়েছে এবং জলবাদ্ধতা তৈরি হয়ে তা সাধারণ মানুষের দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষযটি বিবেচনা করে অংশগ্রহণভিত্তিক এবং সঠিক উচ্চতার বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

ডঃ কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করেছি, তবে এটা এখন স্বল্পমেয়াদে এবং অল্প অল্প করে বাস্তবায়ন করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি স্থানীয় সরকারের কাছে জবাবদিহী হয় তাহলে তা জনঅংশগ্রহন, সঠিক সম্পদ ব্যবহার ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত হবে। তিনি অবশ্য কার্যকর সমন্বয়ের জন্য উপকূলীয় বোর্ড গঠনের বিষয়টিও সমর্থন করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আর্কাইভ

জুন ২০২৪
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« মে    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

সর্বমোট ভিজিটর

counter
এই সাইটের কোন লেখা অনুমতি ছাড়া কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!
দুঃখিত! কপি/পেস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।